নিজস্ব প্রতিনিধি
দেবহাটার কুলিয়ায় শিশুকার্ড ভুক্তভোগী তালিকায় এক যুবদল নেতার অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় এলাকাবাসীর আয়োজনে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত উক্ত মানববন্ধনে শতাধিকের বেশি মহিলা ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন। উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে কুলিয়া ইউনিয়নের শিশুকার্ড ভুক্তভোগী তালিকায় অর্থের বিনিময় ও বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে উপজেলা যুবদলের এক নেতা তালিকায় নাম দিয়েছেন এমন অভিযোগ করেন সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মহিলারা। তারা ঐ যু্বদল নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি টাকা নিয়ে সরকারী নিয়মনীতির বাইরে যেয়ে যারা শিশু কার্ড পাওয়ার যোগ্য না তাদের নাম দিয়েছেন। এমনকি যাচাই বাচাই শেষে তালিকা উপজেলা থেকে চুড়ান্ত করার পরে চাল প্রদানের আগ মূহুর্তে কম্পিউটার প্রিন্টের তালিকাভুক্ত একজনের নাম দিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও কুলিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে প্ররোচিত করে আরেকজনের নাম হাতে লিখে দিয়েছেন। যার কারনে এলাকাবাসী গত মঙ্গলবার চাল প্রদানের দিন তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপে ঐ হাতে লেখা নাম বাদ দিয়ে পূর্বের নাম বহাল রাখা হয়। তাদের অভিযোগ মতে, এক বাড়িতে দুই তিনজনের নামেও শিশু কার্ড দেয়া হয়েছে, যেটা সরকারী নিয়মের পরিপন্হী। এসকল অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বন্যা খাতুন এর নেতৃত্বে ভুক্তভোগী মনিরা খাতুন, তাসলিমা খাতুন, খুকুমণি, ফরিদা খাতুন, নাজমা খাতুনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত শত শত ভুক্তভোগীরা অংশগ্রহণ করেন ও বক্তব্য রাখেন। তবে মানববন্ধন পরবর্তী সময়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য মেহেদী হাসান সবুজসহ তার লোকজন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মিলন ও মানবাধিকার প্রতিদিনের সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজনকে মারপিট করেছে বলে জানা গেছে। তবে এবিষয়ে মেহেদী হাসান সবুজ জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শামিমের ইন্ধনে একটি প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বরং বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে যেয়ে কর্মকর্তাদের সামনে শিশু কার্ডের পূর্বের নাম বহাল রাখার জন্য বলেন।

