শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে চিতলমারীর মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ ও শেষ মুহূর্তের রঙতুলির আঁচড়। এই উৎসবের জন্য চিতলমারী উপজেলার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এ বছর এ উপজেলায় ১৩৫টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন শাস্ত্রমতে এ বছর দেবী দুর্গা গজ (হাতি)-এ চড়ে স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করবেন। এরপর মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী এবং দশমীতে (২ অক্টোবর) বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে তিনি ফিরে যাবেন স্বর্গলোকে।
পূজা উপলক্ষে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা কর্মযজ্ঞ চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে। অধিকাংশ মণ্ডপের প্রতিমায় কাদামাটির কাজ শেষ করেছেন শিল্পীরা। এখন রঙ করার পালা চলছে। দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে সাজসজ্জায় নানান উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
চিতলমারী পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব মানবেন্দ্র মজুমদার বলেন, “এ বছর ১৩৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা পাওয়া যাবে। এ বছর পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।”
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, “শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পূজা উদযাপন কমিটি ও সব মণ্ডপ কমিটির সভাপতি-সম্পাদকদের সঙ্গে সভা করে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করবেন।”
চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাদাৎ হাসান বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে আমাদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়সহ উপজেলায় সব পূজামণ্ডপ কঠোর নিরাপত্তায় রয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা এবং নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের মোবাইল টিম প্রতিটি মণ্ডপে কাজ করছে।”

