Nabadhara
ঢাকারবিবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাচায় তরমুজ চাষে সফল ডুমুরিয়ার কৃষকরা

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫ ১০:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নলঘোনা বিলে মাচা পদ্ধতিতে চাষ করা তরমুজ এবার বাজারে এনে দিয়েছে নতুন চমক। মাটিতে নয়, মাছের ঘেরের আইলে মাচা করে উৎপাদিত এই আগাম তরমুজ সুস্বাদু, মিষ্টি ও আকর্ষণীয় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, এ চাষ পদ্ধতি তাদের আর্থিকভাবে লাভবান করছে, পাশাপাশি বর্ষাকালেও কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ডুমুরিয়ার রাজিবপুর দক্ষিণমহল, রাজাপুর, মৈখালী, ঘোনাবান্দা, উলা, তালতলা, লোহাইডাঙ্গা, কাটাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত কৃষক মাচা পদ্ধতিতে বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করেছেন। শুরুর দিকে বাজারে কেজি প্রতি ৫০-৫৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৬-৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ওজনে ৪-৫ কেজি পর্যন্ত বড় হওয়ায় একটি তরমুজ থেকেই ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

তালতলা মোড়ে তরমুজ বোঝাই ট্রাক শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে—এমন সময় কথা হয় কৃষক শের আলী গাজির সঙ্গে। তিনি বলেন, “প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে ৫৬০টি তরমুজ গাছ রোপণ করেছি। প্রথমবার হলেও ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে দামও ভালো, আশা করছি লাভ ভালোই হবে।”

একই এলাকার কৃষক আবু হাসান বাকের মোল্লা জানান, দুই একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। “একেকটি তরমুজের ওজন ৪ থেকে ৫ কেজি হয়েছে। শুরুতে দাম বেশি ছিল, এখনো দাম ভালো। মোটামুটি লাভজনক হিসেবেই দেখছি।”

তরমুজ ব্যাপারী নাজমুল গাজি ও হাফিজুর রহমান জানান, “স্থানীয় বাজারে তুলনায় বাহিরে দাম বেশি। বিশেষ করে সিলেটের শ্রীমঙ্গল বাজারে তরমুজের চাহিদা অনেক। ট্রাক ভাড়া একটু বেশি হলেও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, “এ বছর ডুমুরিয়ায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে অফসিজন তরমুজ চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি উৎপাদনের সম্ভাবনা ৪০-৪৫ মেট্রিক টন। নলঘোনা, কুলবাড়িয়া, খুটোখালী, আখড়া, চাঁদগড়, সাহস, সুন্দরমহলসহ দক্ষিণ ডুমুরিয়ার প্রায় সব বিলেই এই চাষ হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন বর্ষাকালেও কৃষকরা তরমুজসহ বিভিন্ন শাকসবজি উৎপাদনে সফল হচ্ছেন। একই জমিতে একসঙ্গে মাছ ও ফসল চাষ করায় আয় বেড়েছে কৃষকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার সাংবাদিক কৃষি উদ্যোক্তা শেখ মাহতাব কয়েক বছর আগে প্রথমবারের মতো তার মাছের ঘেরের আইলে পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজ চাষ শুরু করেন। তার সফলতা দেখে আশেপাশের কৃষকেরাও আগ্রহী হয়ে একই পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপজেলা জুড়ে।

তবে চলতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ফলন কম হলেও বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকরা আশাবাদী। গড়ে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক।

ডুমুরিয়ার কৃষকদের এমন সাফল্য দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে যেমন অবদান রাখছে, তেমনি প্রমাণ করছে—উদ্ভাবনী কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও সম্ভব।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।