স্টাফ রিপোর্টার নড়াইল
ঢাকা-কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে আলামুন্সির মোড় লোহাগড়া পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী মাছের আড়ৎতে চলছে নীরব চাঁদাবাজি।
লোহাগড়া বাজার মাছের আড়ৎ সুত্রে জানা গেছে এবছর পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার সময় মাছ বাজার ইজারা নেয় একটি পক্ষ। মাছের আড়ৎটি ২ বছর পুর্বে লোহাগড়া বাজারে অবস্থিত ছিলো। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলামুন্সি মধুমতি আর্মি ক্যাম্পের উত্তর পাশে আলামুন্সি মোড় নামক স্থানে নিজ জায়গায় ওই মাছের আড়ৎ চালু করে আর্থিক সুবিধা লাভ করেন। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মাছের আড়ৎ ওখানেই পরিচালিত হতে থাকে। পরবর্তীতে এবছর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারা টেন্ডার হলে মাছের বাজার টেন্ডারের পায় সাবেক কমিশনার মিলু শরীফের চাচাতো ভাই রাবু শরীফ। কিন্তু আলামুন্সির মোড়ে যে মাছের আড়ৎ টি সেই আড়ৎ টি সম্পূর্ণ টেন্ডারের বাইরে।
প্রতিদিন এই আড়ৎতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ চাষিরা শত,শত মন মাছ এনে বিক্রি করছে। প্রতিনিয়ত এই আড়ৎতে লাখ,লাখ টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়। এই আড়ৎ টি সরকারের ইজারা আওতায় নহে। কিন্ত লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক কমিশনার মোঃ মিলু শরীফ ইজারা বাবদ আড়ৎদারের নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে ১৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেছে বলে স্থানীয় আড়ৎদাররা জানিয়েছেন।
এঘটনায় পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের আলামুন্সির মোড়ে মাছের আড়ৎদার সুভল বিশ্বাস, সন্জয় বিশ্বাস, ফারুক হোসেন,কৃষ্ণ বিশ্বাস সহ অনেকের সাথে সাংবাদিকদের কথা হলে তারা বলেন বলেন সাবেক কমিশনার মিলু শরীফ (বর্তমানে পৌর বিএনপির সভাপতি) মাছের আড়ৎ ইজারা বাবদ তিনি বিভিন্ন সময়ে আমাদের নিকট থেকে ১৮ লাখ সামথিং টাকা নিয়েছেন। এই টাকা আড়ৎদার সঞ্জয়, কৃষ্ণ বিশ্বাস, বিকাশ তার বাড়িতে দিয়ে আসছেন। তারা আরো বলেন আলামুন্সির মোড়ে অবস্থিত মাছের আড়ৎ ইজারার বাইরে। তারপর ও আমাদের এই টাকা দিতে হয়েছে। টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনে হুমকি দিয়ে আসছিলো। আমরা নিরুপায় হয়ে টাকা দিয়েছি তবে কমিশনার মিলু শরীফ আমাদের কোন লিখিত কাগজ দেন নাই। আমরা সংখ্যা লঘু আওয়ামী লীগ যা করছে এখন বিএনপি ও তাই করছে, “কৈ যাবো আমারা ” হিন্দু হয়ে জন্ম নেওয়া আমাদের পাপ হয়েছে।
লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক কমিশনার মিলু শরীফের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার চাচাতো ভাই রাবু শরীফ মাছ ও মাংস বাজার ইজারা পেয়ে ছিল। তিনি মারা যাওয়ার পর বিষয়টি আমি দেখছি। আপনারা আড়ৎতের বিকাশ,সন্জয়,ও সাবেক কমিশনার শাহাদাত সিকদার বিষয় টি জানেন। তাদের কাছে শুনলে বিস্তাারিত জানতে পারবেন বলে ফোন টি কেটে দেয়।
লোহাগড়া পৌর প্রশাসক মিঠুন মৈত্রের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নাই।
তবে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে ফোন নম্বর টি বন্ধ পাওয়া যায়।
লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু রিয়াদ সাংবাদিকদের বলেন,বাজারের বাইরে ওখানে খাজনা নিতে পারবে না। ওই আড়ৎতের জন্য আলাদা টেন্ডার দিতে হবে। যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে তা অবৈধ, বিষয়টি আমি ক্ষতিয়ে দেখছি।

