রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর)
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় মাঠজুড়ে ফুটেছে সরিষার সোনালি ফুল। পুরো মাঠজুড়ে ছড়িয়েছে হলুদ রঙের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আর সেই ফুলের রেণুতে আকৃষ্ট হয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। সরিষা ফুলের এ মৌসুমকে কেন্দ্র করে মধু সংগ্রহে চলছে ব্যস্ততা।
উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের প্রধান সড়কের পাশে সওকত আলীর ১২ শতক জমি এক মাসের জন্য লিজ নিয়ে ১৫০টি মৌবাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষি মোমিনুর আলী। এছাড়াও সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌচাষি সুমন মাঝি ও রবিউল ইসলাম তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন। সরিষা ফুলের মৌসুমে এসব বাক্স থেকেই সংগ্রহ করা হচ্ছে খাঁটি মধু।
মঙ্গলবার সরেজমিনে মৌচাষিদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এপিস সেরানা জাতের (খুদে মৌমাছি) আধুনিক পদ্ধতির মৌমাছি ব্যবহার করে মধু সংগ্রহ করছেন তারা। এ প্রজাতির মৌমাছি বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। সরিষা ক্ষেতের আশপাশে নিরাপদ জায়গায় কাঠের তৈরি মৌবাক্স বিছিয়ে রাখা হয়। প্রতিটি বাক্সে থাকে ৮–১০টি মোমের ফ্রেম এবং একটি করে রাণী মৌমাছি, যা প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার ডিম দেয়। ১৩ দিন পর ডিম থেকে বাচ্চা হয় এবং ২৬ দিন তারা ফুল থেকে রেণু ও মধুরস সংগ্রহ করে। এরপর সপ্তাহে একবার মধু সংগ্রহ করা হয়। সাধারণ শ্রমিক মৌমাছির আয়ু মাত্র ৩৯ দিন।
মৌচাষি মোমিনুর আলী বলেন, “আমরা সরিষাক্ষেত থেকে বছরে চার মাস মধু সংগ্রহ করতে পারি। বাকি আট মাস কৃত্রিমভাবে চিনি খাইয়ে মৌমাছিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়টি মধু সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত।” তিনি জানান, প্রতিটি বাক্স থেকে সপ্তাহে ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। উৎপাদিত খাঁটি মধু কিনে নেয় দেশের পরিচিত ব্র্যান্ড ফ্রেস ও একমি, পাশাপাশি অনলাইন শপগুলোও। বাজারে সরিষা ফুলের মধুর দাম কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
এলাকায় মধু উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মোমিনুর আলী বলেন, “সঠিক পরিবেশ, যত্ন এবং সরকারি সহায়তা পেলে মনিরামপুর এলাকা মধু উৎপাদনের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও বাড়বে।”
মনিরামপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শারমিন শাহানাজ বলেন, “সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছি চাষ করলে ফলন ১০–২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সরিষা ক্ষেত থেকে বিনা খরচে মধু সংগ্রহ একটি লাভজনক প্রক্রিয়া। এতে যেমন মৌচাষিরা লাভবান হন, তেমনি সরিষার ফলনও বাড়ে।”

