রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর)
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে শামুক ভাঙাকে কেন্দ্র করে। একসময় অল্প কয়েকজনের পেশা হলেও বর্তমানে মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর এবং পাশ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার শতশত মানুষ এ কাজে নিয়োজিত হয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
স্থানীয় মাছের ঘেরে উৎকৃষ্ট খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয় শামুকের ভেতরের নরম শাঁস। এ শাঁস বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন এলাকার নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলো। সরেজমিনে উপজেলার ঢাকুরিয়া, হরিদাসকাঠি, দূর্বাডাঙ্গা, নেহালপুর, কুলটিয়া, শ্যামকুড় ও মনোহরপুর ইউনিয়নে দেখা যায় প্রতিদিন শত শত বস্তা শামুক কেনাবেচার জমজমাট বাজার।
বর্তমানে প্রতি কেজি জ্যান্ত শামুক বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়, আর ভাঙা শামুকের শাঁস বিক্রি হয় ২৫ টাকায়। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন একজন শ্রমজীবী মানুষ শামুক বিক্রি করে ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন। অনেকেই ছোট নৌকা নিয়ে বিল, খাল, জলাশয় ও ধানের ক্ষেতে শামুক কুড়িয়ে আনেন; একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বস্তা শামুক সংগ্রহ করতে পারেন।
হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ বলেন, তাঁর অধীনে সাত-আটজন শ্রমিক শামুক সংগ্রহ করেন। “আমি প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ কেজি শামুক কিনি। আস্ত শামুক কিনি ১২ টাকা কেজি দরে, আর ভাঙার জন্য দেই কেজিপ্রতি ২ টাকা। যারা শামুক বিক্রি করেন তারা দৈনিক ৫০-৬০ কেজি শামুক দিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন,” জানান তিনি।
এদিকে হাজিহাটের ব্যবসায়ী রবিন দাস জানান, শামুকগুলো ট্রাকে করে খুলনার বিভিন্ন চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে পাঠানো হয়। ঘের মালিকেরা এসব শামুক প্রক্রিয়াজাত করে চিংড়ির বিশেষ খাবার তৈরি করেন। বর্ষা মৌসুমে অন্য কাজের অভাবে অনেকেই কোনো পুঁজি ছাড়াই শামুক কুড়িয়ে সংসারের বাড়তি আয় করছেন।
স্থানীয়দের মতে, শামুকের এ বাণিজ্য ভবদহ অঞ্চলের বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি এখন আশীর্বাদস্বরূপ একটি পেশায় পরিণত হয়েছে।

