বাঁধন হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হলেও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে অসন্তোষ ও বর্জনের ঘটনায় অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বৈশাখী শোভাযাত্রার পর জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), জেলা শিশু একাডেমীসহ মোট ৮টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সময়সূচি ও পরিবেশনার ক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান দুপুর পর্যন্ত চললেও শিশু-কিশোর সংগঠন নবাঙ্কুরসহ কয়েকটি সংগঠন দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকে।
নবাঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠনের সভাপতি রফিকুজ্জামান মল্লিক অভিযোগ করেন, পরিবেশনার নির্দিষ্ট সময়সূচি না জানানোয় শিশু শিল্পীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়। পরে কোনো স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় তারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে জামালপুর লালন একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, যথাযথ সমন্বয় ও সময়সূচি না থাকায় তাদের সংগঠনকেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। যন্ত্রশিল্পীরা মঞ্চ ত্যাগ করায় পরিবেশনা অসম্ভব হয়ে পড়ে, ফলে তারা অনুষ্ঠান বর্জন করেন।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এককভাবে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পুরো আয়োজনকে বিশৃঙ্খল করে তোলে।
তবে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে কিছু সংগঠন নিজে থেকেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে কোনো আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা ছাড়াই বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয় বলে জানা গেছে।

