আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে জেলা পরিষদের একটি পুকুর থেকে মাছ ধরে লুটপাট ও কেয়ারটেকারকে হুমকি-ধামকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ মে) সকাল সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার তারিফুল ইসলাম জানান, বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া গ্রামে অবস্থিত পুকুরটি সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য সংরক্ষিত থাকায় ইজারা দেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী এ পুকুরের পানি পানির কাজে ব্যবহার করে থাকেন এবং সেখানে মাছ চাষ, গোসল বা পানির গুণাগুণ নষ্ট হয়—এমন কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমানের নির্দেশে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একদল ব্যক্তি জাল দিয়ে মাছ ধরে বস্তায় ভরে নিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ফকরাবাদের শ্যামল পাল, সুশান্ত কুন্ডু, পবিত্র মন্ডল, দেবা দে, সবুর, সুশান্ত সানা, বিশ্বজিৎ সরকার এবং বুড়িয়ার রবিন রায়, কমলেশ মন্ডল, অনুপ মন্ডল, কেনা সরকার, মিলন ও তরুণ রায়ের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
তারিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে দেখে অভিযুক্তরা কিছু মাছ নিয়ে পালিয়ে যায় এবং অবশিষ্ট মাছ বস্তায় ভরা অবস্থায় ছিল। এ সময় তাকে গালিগালাজ, হুমকি ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ঘটনার বিষয়ে এসআই নীতিশ বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। মাছ ধরার বিষয়টি সত্য হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কেয়ারটেকারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর তদন্তের জন্য কেয়ারটেকারকে পাঠানো হয়েছিল এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

