ফরিদপুর প্রতিনিধি
সালথা উপজেলার একটি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই প্রভাবশালী মোড়লের বিরোধ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সোমবার (৪ মে) সকালে উপজেলার মিরের গট্টি গ্রামে সংঘর্ষে অন্তত ২০-২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, গট্টি ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আড়ুয়াকান্দী গ্রামের নুরু মাতুব্বর ও বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উভয় পক্ষ নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
রোববার শুরু হওয়া উত্তেজনা সোমবার চরমে পৌঁছে। সকালে নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজিব মাতুব্বরকে কুপিয়ে আহত করার খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দুই পক্ষই সাধারণ কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষকে নিজেদের প্রভাব বলয়ে রাখতে চাপ সৃষ্টি করছে। কোনো পক্ষের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে এলাকায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। সহিংসতার পর নিরীহ মানুষকে মামলার ভয় দেখানো ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নুরু মাতুব্বর পুলিশের অসহযোগিতার কথা বললেও, জাহিদ মাতুব্বর দাবি করেন তিনি অসুস্থ এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িত নন।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “পুলিশ নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে টানা সহিংসতায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

