Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বোয়ালমারীতে খাল খননের নামে বৃক্ষ নিধন: তদন্ত কমিটি গঠন, ৬০টি গাছের গুঁড়ি জব্দ

ফরিদপুর প্রতিনিধি 
মে ১৯, ২০২৬ ৪:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফরিদপুর প্রতিনিধি 

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখননের নামে সামাজিক বনায়নের দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ বিধ্বংসী এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে আগামী ২৩ মে’র মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ার চাঁদ এলাকার মধুমতী নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, এ কাজের আড়ালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা প্রায় ১৫ বছর বয়সী দুই শতাধিক মেহগনি ও শিশু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের অজুহাতে প্রভাবশালী একটি মহল ক্ষমতার অপব্যবহার করে গাছগুলো কেটে আত্মসাৎ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলাম নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি হেমায়েত উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় তার বাড়ি থেকে কেটে ফেলা গাছের অন্তত ৬০টি কাণ্ড ও গুঁড়ি জব্দ করা হয়। অভিযানের পর থেকেই হেমায়েত উদ্দিন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয়ভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সমর্থকদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও গাছ কাটার সঙ্গে আমার বা আমার সমর্থকদের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালপাড়ের গাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খনন কাজের জন্য গাছ অপসারণের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বন বিভাগ থেকে কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

বোয়ালমারী ইউএনও এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, “অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারি গাছ ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করার কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী এসব গাছ নিলামে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।”

ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।