গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বড় বোনের মরদেহ দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেও জানাযা ও দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি সিরাজুল শেখ ওরফে পাঠান (৩০) নামে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক যুবক।
পাঠান গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ার মৃত আকবর শেখের ছেলে। তিনি ২০২৬ সালের ৬৫ নম্বর মোবাইল কোর্ট মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় দুই মাসের কারাদণ্ড পেয়ে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে আটক ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) সকালে পাঠানের বড় বোন মমতাজ বেগম ওরফে মমো নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। এ খবর পেয়ে পাঠানের বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম শেখ কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে ছোট ভাইকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন।
পরে কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়।
এরপর জেল পুলিশ হাজতি সিরাজুল শেখ ওরফে পাঠানকে নিয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ায় তার বোনের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কিছু সময় বোনের মরদেহের পাশে থাকার পর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পুলিশ তাকে পুনরায় রাজবাড়ী জেলা কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়।
এ সময় প্রতিবেশী ও স্বজনদের অনেকেই আফসোস প্রকাশ করে বলেন, “সর্বনাশা মাদকের নেশা আজ পাঠানকে তার বড় বোনের জানাযায় অংশ নেওয়া এবং কবরে একমুঠো মাটি দেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করেছে।” তবে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ দেওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা ছিল বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু হাজতির বোনের জানাজার সময় ছিল বিকেল সাড়ে ৫টায়। এ কারণে তাকে শুধু মরদেহ দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

