Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ২০ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আসন্ন কোরবানী উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে ‘বাঁশকল পদ্ধতি’

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
মে ২০, ২০২৬ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ও ডাকাতির আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় প্রাচীন কিন্তু কার্যকর ‘বাঁশকল পদ্ধতি’ চালু করেছেন খামারি ও গ্রামবাসীরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় গ্রামের প্রবেশপথ, সংযোগ সড়ক ও বাজার এলাকায় বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে সন্দেহজনক যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গ্রামবাসী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে চলছে রাতভর পাহারা।

জেলার নয়টি উপজেলার খামারি ও কৃষকরা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুসহ বিভিন্ন গবাদিপশু লালন-পালন করছেন। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। এরই মধ্যে জেলা সদর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, শাহজাদপুর, কামারখন্দ ও উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকার কৃষক হাসান শেখের গোয়ালঘর থেকে ছয়টি গরু চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে অভিযান চলছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ও দুম্বা মিলিয়ে ৬ লাখ ১৭ হাজার গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে।

দুগ্ধভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি গরু প্রস্তুত করা হয়। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ছোট-বড় গো-খামার। এসব গরু ঈদের আগেই বিক্রি হয়ে থাকে।

শাহজাদপুর উপজেলার গাড়দহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের মিলন সংঘ ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, সম্প্রতি গ্রামের অন্তত ১৫টি বাড়িতে ‘রঘু ডাকাতের’ নামে রক্তমাখা চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে খামারিদের রাতে গো-খামারের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে, অন্যথায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “এ অবস্থায় গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। পুলিশ সুপার এলাকা পরিদর্শন করে লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইট দিয়েছেন। চোর চক্র যাতে রাতে যানবাহন নিয়ে সহজে গ্রামে ঢুকতে বা বের হতে না পারে, সেজন্য প্রবেশমুখে বাঁশকল বসানো হয়েছে।”

কামারখন্দ থানার ওসি হাসমত আলী বলেন, “ঈদের আগে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বাড়ে। এসব অপরাধ ঠেকাতে গ্রামের প্রবেশপথ ও বাজার এলাকায় বাঁশকল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। পুলিশও নিয়মিত টহল দিচ্ছে।”

তাড়াশ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গবাদিপশু। চুরি ঠেকাতে নৈশকালীন টহল, চেকপোস্ট ও মোটরসাইকেল টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ট্রাক, নসিমন, করিমন ও পিকআপে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ারুল হক জানান, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার। বাকি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে।

তিনি বলেন, “গবাদিপশুর দাম ভালো থাকলে এবার প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার পশু বিক্রি হতে পারে। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “গবাদিপশুর হাটে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জেলার বাইরে পশু পরিবহনের সময় মহাসড়কে পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।