মোঃ মোজাম্মেল হক,চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর চারঘাটে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের অধীনে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
প্রকল্প কর্মকর্তা সাবির হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রাহাতুল করিম মিজান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাহেদুল ইসলাম ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিখা প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ সাবির হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচির লক্ষ্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রাহাতুল করিম মিজান বলেন, যৌন হয়রানি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যার প্রভাব একজন ভুক্তভোগীর পুরো জীবনজুড়ে থেকে যায়। ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের এটা সময়োপযোগী উদ্যোগ। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন হয়রানি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করি এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার স্থান। ‘শিখা প্রকল্প’ এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই।
প্রকল্প কর্মকর্তা সাবির হোসেন বলেন, শিখা প্রকল্প মূলত উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাবলিক স্পেস এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

