বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে তিন আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের (ঘোড়া প্রতীক) প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জায়গায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের স্টেডিয়াম–সংলগ্ন তাঁর নিজস্ব জমিতে থাকা কয়েকটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আগুন লাগা স্থানটিতে সেলিমের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন ও অধুনালুপ্ত দৈনিক দক্ষিণ কণ্ঠ পত্রিকার কার্যালয় ছিল। সম্প্রতি সেখানে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পত্রিকা কার্যালয়ের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে একটি স্পিডবোট ও কিছু গাছপালা পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাগেরহাট স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে সেলিমের সমর্থকদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান (প্রিন্স) বলেন, বাগেরহাটবাসীর জন্য মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা তাঁদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখানে হাসপাতালের সাইনবোর্ডও দেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, দেওয়ালঘেরা স্থাপনায় ঢুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে একটি পক্ষ তাঁদের প্রচারণায় বাধা, কর্মীদের হুমকি, কার্যালয় দখল ও হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে নির্বাচন করছেন। এর আগে তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা, নির্বাচনী কার্যালয় দখল ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ এনে দুই দফা সংবাদ সম্মেলনও করা হয়।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, আগুন লাগার ঘটনা তদন্তে পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

