দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। শুধু অভিযোগই নয়, দৌলতপুর থানা পুলিশের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে জাতীয় সংসদেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। মাদক চোরাচালানসহ থানার অপরাধচিত্র তুলে ধরে জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা।
এছাড়াও দৌলতপুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পীর হত্যা, যুবদল নেতাকে গুলি করে আহত করার ঘটনাসহ নানা অপরাধে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলেও তা ওসি আরিফুর রহমানকে নাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব ঘটনা প্রকাশ পেলেও এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তিনি নির্লিপ্ত রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। আলোচিত ঘটনাগুলোতে জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ওসি আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ার দাবিও করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার এসব কর্মকাণ্ডে থানার কিছু এসআই জড়িত বলেও সংসদে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোসেনাবাদ এলাকার মহসিন আলীসহ কয়েকজন অভিযোগকারী জানান, থানায় দায়ের করা অনেক অভিযোগ অর্থ লেনদেন ছাড়া তদন্তের পর্যায়ে এগোয় না। নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলেও তারা দাবি করেন। টাকার বিনিময়ে মিথ্যা অভিযোগও তদন্ত ছাড়াই মামলায় রূপ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি পীর হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও ওসির নির্দেশে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এছাড়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সেবায় অর্থ আদায়, জুয়া ও মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত চুক্তিভিত্তিক অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে দৌলতপুর থানার ওসিসহ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে একটি মহলের অপপ্রচার বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাভোগী একটি পক্ষ ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিতে তৎপর রয়েছে এবং ব্যক্তিস্বার্থে অভিযোগগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, দৌলতপুরে বর্তমান অস্থিতিশীল ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

