মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানকে ঘুষ গ্রহণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহারের পর শরীয়তপুরে দেওয়া বদলী আদেশ বাতিল করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
বরখাস্তের আদেশে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
আদেশপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মার্চ বিভিন্ন জাতীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় অফিস চলাকালীন সময় অর্থ লেনদেনের ভিডিও ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে পত্র পাঠানো হয়। এছাড়া গত ২৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর মুন্সীগঞ্জ সফরকালে স্থানীয় জনগণও তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ঢাকা ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আগে তার বদলী আদেশ দেওয়া হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্টেনোটাইপিস্ট মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ায় সাংবাদিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকরা তার অবৈধ সম্পদের বিষয়েও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দাবি করেছেন।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। তারা সারাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ তার ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করেন। পরে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের প্রেক্ষাপটে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও ডিজির নির্দেশনায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

