খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী নারী চম্পা কলি জানিয়েছেন, তালাকের পরও গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে অভিযুক্ত ওই কনস্টেবল তাকে অনুসরণ করে মারধর, গালিগালাজ এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল ) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন চম্পা কলি।
তিনি বলেন, ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা কাবিনে তেরখাদা উপজেলার জয়সেনা গ্রামের বাসিন্দা পুলিশ কনস্টেবল মো. রবিউল ইসলামের (বিপি নং- ৮০০১০৫৬৩৬২) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে রবিউলের প্রথম স্ত্রী অসুস্থ ও শয্যাশায়ী—এমন তথ্য জানানো হলেও বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, প্রথম স্ত্রী সুস্থ এবং তাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে।
চম্পা কলির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রবিউল ইসলাম নিয়মিত মাদক সেবন করে বাড়ি ফিরতেন এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
গাছের ডাল ও লোহার রড দিয়ে মারধরের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। মাত্র তিন মাস এই নির্যাতন সহ্য করার পর ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি তাকে তালাক দিতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে তিনি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
তিনি আরও বলেন, তালাকের পরও হয়রানি থামেনি। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে গিয়ে বা ফোনে হুমকি দিয়ে তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক, সালমান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আসার আলো ক্লিনিকে কর্মরত থাকাকালীনও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
চম্পা কলির ভাষ্য, বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাকে গালিগালাজ করা হয়, কখনো মারধরও করা হয়েছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, একাধিকবার থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশে কর্মরত থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও তার দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি ও আমার পরিবার প্রতিনিয়ত আতঙ্কে আছি। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার ডোপ টেস্ট করা হোক।”
চম্পা কলি জানান, অভিযুক্ত কনস্টেবল বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত। সুযোগ পেলেই এলাকায় এসে তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

