রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগের পর তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামানের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা খাদ্যসামগ্রীর মান যাচাইয়ে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্যে দেখা যায়, কর্মসূচির আওতায় বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফোর্টিফাইড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে সব উপকরণ নিয়মিত দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে অনেক বিদ্যালয়ে ফোর্টিফাইড বিস্কুট পৌঁছেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। মৌসুমি ফল হিসেবে সরবরাহ করা কলাও অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামান জানান, ২০ এপ্রিল সরবরাহ করা ৪৬০টি বনরুটির মধ্যে ২৩২টিতে ছত্রাক পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে রুটি বিতরণ বন্ধ করা হয় এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভুধর চন্দ্র সানাকে অবহিত করা হয়।
একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকটি বিদ্যালয় থেকেও এসেছে। শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরবরাহ করা ডিম অনেক ক্ষেত্রে দুর্গন্ধযুক্ত, ময়লাযুক্ত ও নষ্ট ছিল। পাশাপাশি বনরুটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া কিংবা মেয়াদের তারিখ না থাকার ঘটনাও পাওয়া গেছে।
এর আগে ১১ এপ্রিল উপজেলা পর্যায়ের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রধান শিক্ষকরা একযোগে খাদ্যের মান নিয়ে অভিযোগ তোলেন। সভায় স্থানীয় সরবরাহকারী মোঃ মাহাদী হাসান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওসাকা এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষ ভবিষ্যতে মান বজায় রাখার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক অভিভাবক শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

