গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মেদাকুলে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী লালন উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বরিশাল ও মাদারীপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এ উৎসবে এবার ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটতে পারে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মেদাকুলে অবস্থিত শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে আশ্রমসংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ পুকুরপাড় ও আশপাশের এলাকা বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। আধুনিক লাইটিংয়ে সজ্জিত সড়ক ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করবে।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে গভীর রাত পর্যন্ত চলবে কুষ্টিয়া লালন একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় লালন সংগীত। আগামী ৩ জুন সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বাউল শিল্পী নিতু বালা, স্বাপ্নিক নৃত্য বিকাশের নৃত্যশিল্পীরা এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সংগীতশিল্পীরা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, একতা লোকনাথ সংঘের ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে রামযাত্রা পালা এবং শুক্রবার মঞ্চস্থ হবে নিমাই সন্ন্যাস পালা। শনিবার রাত ৮টায় বিখ্যাত পাঠক বিল্লমঙ্গল দেবনাথ দাস শ্রীমদ্ভগবদ পাঠ করবেন। উৎসবের শেষদিন রোববার শ্রীমদ্ভগবদ পাঠ করবেন গোপীনাথ দাস ব্রহ্মচারী। প্রতিদিনই ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে।
একতা লোকনাথ সংঘের পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ বলেন, “প্রায় আড়াই যুগ ধরে এই আয়োজন হয়ে আসছে। এলাকার সুনাম বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আনন্দ-উৎসবের অংশ হিসেবেই প্রতিবছর এ আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, “অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।”
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, “এটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন। তাই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”

