মেলান্দহ (জামালপুর) প্রতিনিধি
আজ ২ জুন। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমসিএ), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মরহুম Abdul Hai Bacchu Mia-এর ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।
২০০০ সালের ২ জুন তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে পশ্চিম জামালপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশেষ করে মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ অঞ্চলের মানুষ একজন জনদরদী, সৎ ও আদর্শবান নেতাকে হারিয়েছিল। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবারের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, রাজনৈতিক সহকর্মী ও এলাকাবাসী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য আব্দুল হাই বাচ্চু মিয়া আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী, গরিব-অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ একজন জনপ্রিয় নেতা।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মরহুম বাচ্চু মিয়া রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করতেন। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি ছিলেন গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর বাড়ির দরজা সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কোনো অসহায় মানুষ সাহায্যের জন্য তাঁর কাছে গেলে খালি হাতে ফিরতে হতো না।
১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামালপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে তোলেন। তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন গতি লাভ করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। কর্মীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে পশ্চিম জামালপুরের একজন স্মরণীয় নেতায় পরিণত করেছে।
সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁর আদর্শিক দৃঢ়তার কথা। তিনি প্রায়ই বলতেন, “আমি যতদিন বেঁচে থাকব, আল্লাহ যেন আমাকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবেই মৃত্যু দান করেন।” তাঁর এই আদর্শ আজও অনেক নেতাকর্মীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
মৃত্যুর ২৬ বছর পরও মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। উন্নয়ন, জনসেবা, সততা ও মানবিকতার জন্য তিনি আজও স্মরণীয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা যেন মরহুম আব্দুল হাই বাচ্চু মিয়ার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন—এ কামনা করা হয়েছে।

