নাজিম বকাউল, ফরিদপুর
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। বাবার ও দাদির কবরের পাশে লাগানো ফুলগাছ চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বা প্রতিশোধের পথ না বেছে পুরো গ্রামকে ১,৫০০টি ফুলগাছ উপহার দিয়েছেন শামীম আহমেদ। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, প্রয়াত বাবা ও দাদির স্মৃতি ধরে রাখতে তাঁদের কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী গাছ রোপণ করেছিলেন শামীম। গাছগুলো বড় হয়ে ফুলও দিতে শুরু করেছিল। কিন্তু একদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, গাছগুলো উপড়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় কষ্ট পেলেও ভিন্নভাবে ভাবতে শুরু করেন শামীম। তিনি মনে করেন, যে ব্যক্তি গাছগুলো নিয়েছে, সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। সেই চিন্তা থেকেই পুরো গ্রামকে ফুলে-ফলে ভরিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পরবর্তীতে নিজ খরচে শ্রমিক নিয়োগ করে গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে থাকা ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী গাছ রোপণ করেন। সব মিলিয়ে তিনি ১,৫০০টি ফুলগাছ বিতরণ ও রোপণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক মাসের মধ্যেই গাছগুলো বড় হয়ে ফুলে ভরে উঠবে। তখন পুরো গ্রাম সুগন্ধে মুখরিত হবে। তারা শামীমের এই উদ্যোগকে অনুকরণীয় ও প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন।
শামীম আহমেদ বলেন, “আমার কবরের গাছগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু আমি চাইনি এর প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক হোক। আমি চাই, গ্রামের প্রতিটি মানুষ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করুক। হয়তো যিনি গাছগুলো নিয়েছেন, তাঁর বাড়িতেও এই গাছ গেছে। গাছগুলো দেখে যদি তাঁর মধ্যে অনুশোচনা তৈরি হয়, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পুরো সদরপুর উপজেলাকে সবুজ ও ফুলে-ফলে ভরিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
চুরির ঘটনার জবাবে ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও পরিবেশবান্ধব বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের হৃদয় জয় করেছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এমন উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

