জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজার এলাকার এক খামারি এনজিওর কাছ থেকে নেওয়া ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ করেও মামলা থেকে মুক্তি না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এনজিও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ঋণ পরিশোধ করলেও মামলা প্রত্যাহার না করায় এখনো আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাকে।
ভুক্তভোগী খামারি শামসুর রহমান (৭৪) জানান, ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (প্রগতি) কালাই শাখা থেকে তিনি পোল্ট্রি খামারের জন্য ৩ লাখ টাকা ঋণ নেন। শুরুতে নিয়মিত কিস্তি দিলেও করোনাকালে লোকসানের কারণে পরবর্তীতে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন।
তিনি জানান, পরে এনজিও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সম্পত্তি বন্ধক রেখে মূল টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ঋণ শোধ করার পরও তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়। ওই সময় এনজিওর দাবি ছিল প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার টাকা।
শামসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “মামলার পর এনজিওর তৎকালীন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, পুরো টাকা পরিশোধ করলে মামলা তুলে নেবে এবং সুদের টাকা মওকুফ করবে। সেই আশ্বাসে আমি বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করে পুরো পাওনা পরিশোধ করি। কিন্তু এখন তারা মামলা প্রত্যাহার করছে না।”
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে নগদ ও সঞ্চয়সহ প্রায় ৭১ হাজার ২০০ টাকা এবং পরে আরও বিভিন্ন কিস্তির মাধ্যমে মোট পুরো পাওনা পরিশোধ করা হয়। তবে এখনো মামলা চলমান থাকায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাকে।
এ বিষয়ে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (প্রগতি) কালাই শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক মো. বেলাল হোসেন বলেন, “মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি এখন আদালতের আওতাধীন।”
ভুক্তভোগী খামারির আইনজীবী অ্যাডভোকেট লক্ষণ শীল বলেন, “ঋণ পরিশোধের কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবুও মামলা প্রত্যাহার না করায় আসামিকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
এদিকে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, “ঋণ পরিশোধ হয়ে থাকলে মামলা প্রত্যাহার না হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিনের পোল্ট্রি খামারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা শামসুর রহমান এখন মামলা ও হয়রানির কারণে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

