মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে ৪৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় চাঁদপুর-মাঝিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্নাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলায় মোট তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাশেম আলীর দায়ের করা মামলায় যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শান্তনু কুমার মণ্ডল গত ১ জুলাই এ রায় দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্না হাশেম আলীর কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে ওই টাকার বিপরীতে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, মনিরামপুর শাখার একটি চেক প্রদান করেন। তবে হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৪৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এর আগে, মনিরামপুর উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ব্যাংক কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগমের দায়ের করা ১২ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় গত ৪ মে একই আদালত জামাল উদ্দিনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ১২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এছাড়া উপজেলার মাতৃভাষা কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুল কবিরের স্ত্রীর কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি চেক ডিজঅনার মামলায় ২০২২ সালের ৩১ জুলাই যশোরের যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
তিনটি মামলায় মোট ৬৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের ঘটনায় পৃথকভাবে তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, তিন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্না বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে পুলিশ এখনও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, “পরোয়ানাভুক্ত আসামি জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
চাঁদপুর-মাঝিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন, আদালতের রায়ের বিষয়টি জেনেছি। বিধি অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

