গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পৈত্রিক জমির দখল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
উপজেলার দৌলতদিয়া সোনাউল্লাহ ফকিরপাড়ায় গত ৩০ জুন এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার চার দিন পর, ৪ জুলাই রাতে ভুক্তভোগী মাহেলা খাতুন (৬০) গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি স্থানীয় হানেফ আলী সরদারের স্ত্রী।
অভিযুক্তরা হলেন সোনাউল্লাহ ফকিরপাড়ার আলতাফ সরদারের ছেলে রুবেল সরদার (৩২) ও রাব্বী সরদার (২১), মজিবর সরদারের ছেলে কাউছার সরদার (১৯), আলতাফ সরদার (৫৫), মজিবর সরদার (৪০) ও মাইনুদ্দিন সরদার (৪৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উভয় পক্ষ একই বংশের এবং প্রতিবেশী। পৈত্রিক ২২ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও তা কার্যকর হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ জুন বিকেলে অভিযুক্তরা বিরোধপূর্ণ জমিতে ইট-বালু দিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে হানেফ আলী সরদার, তার ছেলেরা ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাহেলা খাতুনের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা তাদের বাড়িতে ঢুকে তিনটি ঘরে ভাঙচুর চালায় এবং প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। এছাড়া নগদ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে আজম সরদারকে ঘর থেকে টেনে বের করে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আলতাফ সরদার বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। বরং তারাই সংঘবদ্ধ হয়ে এসে আমার পৈত্রিক জমিতে কাজ করতে বাধা দিয়েছে এবং আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।”
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

