জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে শ্রমিক তালিকায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প সভাপতির ভাই, ভাতিজা, চাচাতো ভাই, মামাসহ নিকট আত্মীয়দের শ্রমিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করার অভিযোগের পাশাপাশি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় প্রায় ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে ১২৫ জন শ্রমিকের নাম থাকলেও বাস্তবে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫ জনের বেশি শ্রমিক কাজ করেননি। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত শ্রমিকদের পরিবর্তে প্রকল্প সভাপতি ও বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেনের ছোট ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, চাচাতো ভাই, মামাসহ স্বজনদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পেশাদার দিনমজুর নন—এমন অনেক ব্যক্তির নামও শ্রমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমনির্ভর প্রকল্প হলেও খালের অধিকাংশ খননকাজ এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে করা হয়েছে। পরে শ্রমিকদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকজন অভিযোগ করেন, তাদের দিয়ে আগেই চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কেউ ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পেলেও অনেকে কোনো অর্থই পাননি।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তালোড়া-বাইগুনি গ্রামের বাসিন্দা সুমির জালাল বলেন, শ্রমিক তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। প্রকল্প সভাপতির প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। তালিকা যাচাই করলে ৭০ জনের বেশি প্রকৃত শ্রমিক পাওয়া যাবে না।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, “এখন প্রকল্পের কাজ করবো না তো কি চুরি করে খাব? শ্রমিকের তালিকায় আমার ভাই-ভাতিজা ও স্বজনদের নাম আছে তো কী হয়েছে? যা লেখার লিখেন।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক তালিকায় প্রকল্প সভাপতির কয়েকজন নিকট আত্মীয় ও আওয়ামী লীগ নেতার এক আত্মীয়ের নাম থাকার বিষয়টি নজরে এসেছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বরাদ্দের ৫২ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, শ্রমিক তালিকায় অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিল পরিশোধ করা হয়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

