Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ১৭ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২৭ বছরেও এমপিওভুক্ত নয়, বেতনহীন শিক্ষকদের মানবেতর জীবন; বন্ধের মুখে গাড়ীক্ষেত্র ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা

নওগাঁ প্রতিনিধি
জুলাই ১৭, ২০২৬ ৭:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নওগাঁ প্রতিনিধি

দীর্ঘ ২৭ বছরেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাড়ীক্ষেত্র ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসাটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বছরের পর বছর বেতন-ভাতা ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর্থিক সংকট ও অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটি ২০০২ সালে স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২০০৪ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কেউই নিয়মিত বেতন-ভাতা পান না।

শিক্ষকরা জানান, জীবিকার তাগিদে পাঠদানের পাশাপাশি অনেকেই দর্জির কাজ, কৃষিকাজ, দিনমজুরি ও ছোটখাটো ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবুও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট লোকমান হোসেন বলেন, শিক্ষানুরাগী আবদুল আলিম, আবদুল জব্বার মণ্ডল, খয়বর আলী, মকবুল হোসেন, পরিজান বেওয়াসহ ১৭ জন দাতার দেওয়া ১৪৬ দশমিক ৫ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। বর্তমানে মাদরাসায় ৩৬৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতি বছরই এখান থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষায় যাচ্ছে। ২০২৫ সালে ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন, ২০২৪ সালে ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন এবং ২০২৩ সালে ২০ জনের মধ্যে ৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০২৬ সালে ১৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষার মান ধরে রাখা এবং শিক্ষকদের ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত এমপিওভুক্তির জন্য সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনেয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও মাদরাসাটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতার বাইরে থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ ভবন ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করা না হলে এলাকার শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তারা শিক্ষা উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল লতিফ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। তারা এমপিওভুক্তির জন্য চেষ্টা করছে। আশা করি, বিষয়টির ইতিবাচক সমাধান হবে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকতার জাহান সাথী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।