কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলীর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নিজের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভিন্ন নামে প্রকল্প দেখিয়ে উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের (ইউডিএফ) প্রায় ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে চেয়ারম্যানের পৈতৃক বাড়িতে যাওয়ার জন্য আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউডিএফ প্রকল্পের আওতায় “সাহাবাজ মজির গেট হতে আলম মণ্ডলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা আরসিসিকরণ” শিরোনামে ১৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি প্রশস্ত একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য ৯ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রব্বানী ট্রেডার্স।
তবে সরেজমিনে স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পে উল্লেখিত রাস্তার পরিবর্তে চেয়ারম্যান আনছার আলীর পৈতৃক বাড়িতে স্বজনদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ওই রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ পাশেই গঙ্গানারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও সেগুলো উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ এখনও দুর্ভোগে রয়েছেন।
গঙ্গানারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইউনুছ আলী বলেন, “চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত রাস্তার আগে স্কুলের সামনের কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন ছিল। বৃষ্টি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, “আমি চেয়ারম্যান হিসেবে গত ১০ বছরে ইউনিয়নে ৪১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা করেছি। চেয়ারম্যানির শেষ সময়ে নিজের বাড়ির রাস্তাটুকু করেছি। এতে যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তাহলে এলাকার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইব।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ মিয়া বলেন, “ইউডিএফের প্রকল্প স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে বাস্তবায়ন করা হয়। তারা যে স্থান দেখান, সে অনুযায়ী আমরা সার্ভে করি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের দাবি অনুযায়ী, তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের যোগসাজশে সরকারি অর্থে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

