আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য শীলা আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তার স্বামী ও ৪ নম্বর গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন শীলা আক্তার। প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠান। ওইদিন রাতে সেখানে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শীলা আক্তার ৪ নম্বর গৈলা মডেল ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি তিন কন্যাসন্তানের জননী।
নিহতের বড় ভাই আলামিন হাওলাদার বাদী হয়ে ২৯ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে শীলা আক্তারের সঙ্গে তার স্বামী মারুফের মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে শীলা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
নিহতের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাতের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে মারুফ তার মেয়েকে প্রায়ই মারধর করতেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ পলাতক আসামি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরও জানান, আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য মারুফকে বরিশালের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

