Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খালিয়াজুরীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলে হয়রানির অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৬:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের কাছ থেকে টাকা দাবি, মারধর এবং নৌকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেদের পক্ষে মো. মুজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি খালিয়াজুরী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বিশুরীকান্দা এলাকায় গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে মেন্দিপুর ইউনিয়নের বানুয়ারী গ্রামের আল আমিন চৌধুরী (৩৫), আলী হোসেন (৩০), সারোয়ার চৌধুরী (৪০) ও নয়ন মিয়া (৩৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মুজিবুর মিয়া জানান, তিনি সহ স্থানীয় ২৪টি পরিবার হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি বিশুরীকান্দা এলাকায় মাছ ধরতে গেলে অভিযুক্তরা সেখানে মাছ ধরতে হলে টাকা দিতে হবে বলে জানান। পরে দুই নৌকার জেলেরা প্রথমে আল আমিন চৌধুরী ও আলী হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হলে জীবিকার তাগিদে ওই টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট রাতে ১৮ জন জেলে দুটি নৌকা নিয়ে ওই এলাকায় মাছ ধরতে গেলে অভিযুক্তরা জানান, আগের এক লাখ টাকা দিলেও সেখানে মাছ ধরা যাবে না। ভাসা পানি থাকা পর্যন্ত মাছ ধরতে হলে আরও দুই লাখ টাকা দিতে হবে। এতে জেলেরা নতুন করে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আগের এক লাখ টাকা ফেরত চান।

একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির মধ্যে আল আমিন চৌধুরী ও আলী হোসেনের নেতৃত্বে জেলেদের মারধর করা হয় এবং তাঁদের কাছ থেকে নগদ এক হাজার ৬০০ টাকা, তিনটি স্মার্টফোন ও তিনটি বাটন মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও জাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন জেলেরা। নৌকা দুটির আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মুজিবুর মিয়া বলেন, ‘আমরা মাছ ধরে পরিবার চালাই। মাছ ধরতে গেলেই বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয় এবং টাকা দাবি করা হয়। ঘটনার রাতে আমাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করার পাশাপাশি নৌকা ও মোবাইল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।’

আরেক জেলে শহীদুল্লাহ বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা দুই নৌকার জেলেরা বাধ্য হয়ে টাকা দিতে রাজি হই। বোয়ালী গ্রামের মিলন মিয়ার উপস্থিতিতে এক লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি ঠিক হয়। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয় এবং বাকি ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য সঙ্গে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ওই রাতে বিশুরীকান্দায় মাছ ধরতে গেলে আল আমিন ও আলী হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন দুই লাখ টাকা দাবি করেন। আমরা আপত্তি জানালে মারধর করা হয় এবং সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন, নৌকা ও জাল নিয়ে যাওয়া হয়।’

তবে টাকা দাবি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আল আমিন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি আগড়ডুবি জলমহালের অংশীদার। আসল মালিক আলী হোসেন। আমাদের ফিশারির পাশে বলরামপুরের জেলেরা মাছ ধরতে এলে আমরা বাধা দিই। তাদের সঙ্গে বোয়ালীর নেতা মান্নান চৌধুরী ও মিলন মিয়ার চুক্তি হয়েছে। আমরা বলেছি, এখানে মাছ ধরলে আমাদের কিছু হাদিয়া দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলেদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি সত্য নয়। আমাদের কথা না মেনে তারা জাল দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে আমরা তাদের জাল, দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, দুটি স্মার্টফোন ও দুটি বাটন ফোন নিয়ে আসি। থানার দারোগা এসেছিলেন। আমি বিষয়টি স্বীকার করেছি এবং বলেছি, তারা এলে নৌকা ও জিনিসপত্র দিয়ে দেওয়া হবে।’

অভিযুক্ত আলী হোসেন বলেন, ‘ফিশারিটি মূলত সাতগাঁওয়ের মেম্বার শফিকুলের। আমি হায়দার ভাইয়ের ভাই রব্বানী ভাইয়ের কথায় এটি দেখাশোনা করি। আষাঢ় মাস থেকে বলরামপুরের জেলেদের ওই এলাকায় মাছ ধরতে নিষেধ করছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনে না। তারা বলে, বোয়ালীর মিলন মিয়া ও পপুলার মিয়ার সঙ্গে তাদের রফাদফা হয়েছে।’

দুই লাখ টাকা দাবি এবং ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আলী হোসেন তা অস্বীকার করে বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা কথা। তবে আমাদের কথা না মানায় আমরা নৌকা, জাল, দুটি স্মার্টফোন ও দুটি বাটন ফোন নিয়ে এসেছি। বিষয়টি বোয়ালীর মান্নান চৌধুরীকে জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।