দাউদ রানা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ৬০০ বস্তা চালের মধ্যে ৫২০ বস্তা পাওয়া গেছে। বাকি ৮০ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সেখানে বরাদ্দের ৬০০ বস্তার পরিবর্তে ৫২০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার করা চালগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চৌহালী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জন্য মোট ৫৮ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল উপকারভোগীদের মধ্যে ৩০ কেজি করে বিতরণের কথা রয়েছে।
এর মধ্যে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৮ টন বা ৬০০ বস্তা চাল। বরাদ্দের চাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রশাসনের নজরে আসার পর মঙ্গলবার রাতে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট গুদামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৬০০ বস্তার পরিবর্তে ৫২০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। বাকি ৮০ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, ‘আমরা ৬০০ বস্তা চাল না পেয়ে ৫২০ বস্তা পেয়েছি। প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানকে ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি আসেননি। তিনি পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ চালের ৮০ বস্তা পাওয়া না যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

