আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুবিধা, সম্ভাবনা ও সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।
আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ছিদ্দিকুর রহমান।
সভায় ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি নীতিপত্র উপস্থাপন করেন এজিএম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) লুৎফর রহমান। এতে সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে জনগণের ধারণা, প্রচলিত ভুল ধারণা, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন এজিএম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) লুৎফর রহমান, বিদ্যুৎ অফিসের ওয়্যারিং পরিদর্শক ইমরান মীর, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ হোসেন ফিরোজ মোল্লা, ব্যবসায়ী এসএম আলমগীর, মেহেদী হাসান, আলামিন মোল্লা, নাইম মিয়া, বাশাইল এলাকার ব্যবসায়ী শামীম সিকদার, বাগধা এলাকার রাব্বি হাওলাদার, শাকিল মাহমুদ, হাবিব শেখ, শাকিল হাওলাদার ও আব্দুল গফফারসহ অনেকে।
এ ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এতে প্রতিবছর জ্বালানি আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। বক্তাদের দাবি, এ অর্থ দিয়ে প্রায় ৩২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব হতো।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় হ্রাস, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখা সম্ভব।
আলোচনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে জনসচেতনতার ঘাটতি, প্রচলিত ভুল ধারণা, প্রাথমিক বিনিয়োগের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গ্রিড সংযোগ, নীতিগত সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো উঠে আসে।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক সংলাপ ও অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

