অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্বামীকে মারধর ও ইজিবাইকের চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েক যুবকের বিরুদ্ধে। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। একপর্যায়ে পেটে আঘাত লেগে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনে সন্তান প্রসব করেন তিনি। তবে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের বেতমোর গ্রামের কৃষক হাবিব পাহলানের স্ত্রী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে তানিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে ইজিবাইকে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে মুন্সিবাড়ি স্ট্যান্ডসংলগ্ন ভাঙা সড়কে কয়েক যুবক আড্ডা দিচ্ছিলেন। ইজিবাইক চলাচলের জন্য তাদের সরে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নেন বলে অভিযোগ।
তানিয়ার স্বামী হাবিব পাহলান বলেন, “স্ত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে তাদের সরে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা গাড়ির চাবি নিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তার পেটে আঘাত লাগে। স্ত্রীর রক্তপাত শুরু হলেও আমাদের প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।”
হাবিব আরও বলেন, তার বাবা দুলাল হাওলাদার তানিয়ার অবস্থা দেখে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর সহযোগিতায় তারা ছাড়া পান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তানিয়ার প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে হাসপাতালের গেটের সামনে তিনি সন্তান প্রসব করেন।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার এহসানুল হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আরও আগে হাসপাতালে আনা সম্ভব হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর সুযোগ থাকত। তানিয়া বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে।
চাকামইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর ফকির বলেন, কয়েকজন যুবকের কারণে একটি প্রাণ ঝরে গেছে। তিনি তানিয়া, তাঁর স্বামী ও শ্বশুরের চিকিৎসার খোঁজ নিতে হাসপাতালে এসেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

