ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সহকারী শিক্ষক খালেকুজ্জামান সুজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে কুমারুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তার অফিস কক্ষে তালা দেওয়া হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চাঁন মিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সহকারী শিক্ষক খালেকুজ্জামান সুজন শ্লীলতাহানি করেছেন—এমন অভিযোগ প্রচারিত হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে।
তবে ওই ছাত্রীর বাবা আব্দুর রউফ দাবি করেন, তার মেয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হয়নি। এ বিষয়ে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলেও জানান।
এদিকে শনিবার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চাঁন মিয়া বাদী হয়ে সহকারী শিক্ষক সুজনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা করেন।
শিক্ষার্থীরা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে তা প্রত্যাহার এবং শিক্ষক সুজনের মুক্তির দাবিতে রোববার বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। একপর্যায়ে তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তার অফিস কক্ষে তালা দিয়ে দেয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার জন্য থানায় আসতে বলা হয়েছে।

