খুলনা প্রতিনিধি
প্রশ্ন করার সুযোগ না দেওয়া এবং ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের নবনিযুক্ত ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বর্জন করেছেন সাংবাদিকেরা। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সভা বর্জন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খুলনায় কর্মরত বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. রেজাউল করিম। দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য পরিচিতি ও মতবিনিময়ের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়। তবে সভায় গিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ না পাওয়া এবং ছবি ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার অভিযোগ করেন সাংবাদিকেরা।
তাঁদের অভিযোগ, খুলনার অপরাধ পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পুলিশের কার্যক্রম এবং পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ না থাকায় একপর্যায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সভা বর্জন করে কক্ষ ত্যাগ করেন।
এ সময় একুশে টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরো প্রধান আশরাফুল ইসলাম নুর বলেন, সাংবাদিকেরা ব্যক্তিগত স্বার্থে বা নিছক সৌজন্য বিনিময়ের জন্য সেখানে যাননি। খুলনাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। প্রশ্ন করার সুযোগ না থাকলে সেটিকে মতবিনিময় সভা বলা হাস্যকর।
খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সারোয়ার এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রশ্ন করতে না দেওয়া এবং ক্যামেরা বা ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নজিরবিহীন। সাংবাদিকেরা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারেন না। সরকারি কর্মকর্তার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে এমন ভীতি বা বিধিনিষেধ গ্রহণযোগ্য নয়। সম্মান রক্ষার্থেই তিনি অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে সভা বর্জন করেছেন বলে জানান।
সাংবাদিকদের মতে, পুলিশের কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মতবিনিময় সভায় মুক্তভাবে প্রশ্ন করার সুযোগ না থাকলে পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

