শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষকের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্যসংবলিত ফটোকার্ড প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাইদ শেখ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষকের ছবি ব্যবহার করে ‘ANAS AKANDA’ ও ‘Shafiq Tanvir’ নামের দুটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি ফটোকার্ড তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে। ফটোকার্ডে লেখা ছিল, ‘৫০ বছরের শিক্ষক পালিয়ে গেলেন ৪০ বছরের শিক্ষিকাকে নিয়ে।’ গত ৮ ও ১০ অক্টোবর লোকমুখে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর দাবি, ফটোকার্ডটি বিভিন্ন মানুষের মোবাইল ফোনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষক বলেন, এ ধরনের প্রচারণায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ফটোকার্ডটি তৈরি ও প্রচার করেছে, তা তাঁদের জানা নেই। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে যাচাইবিহীন, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা অনুচিত। কোনো তথ্য বা ছবি প্রকাশের আগে এর সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় শেরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ফটোকার্ডটির উৎস, প্রচারের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ফটোকার্ডটি সরিয়ে নেওয়া, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রচারণা বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান প্রধান শিক্ষক।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

