যশোর প্রতিনিধি
যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৬৯ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০০ জন রোগী।
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৮২৫ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে ৪২ জনকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শার্শায় চারজন, কেশবপুরে তিনজন, অভয়নগরে দুজন, মণিরামপুরে দুজন এবং চৌগাছায় একজন রয়েছেন।
আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে অভয়নগর উপজেলা। এ বছর অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০১ জন, কেশবপুরে ২২০ জন, শার্শায় ১৯৯ জন, বাঘারপাড়ায় ১৭৮ জন, মণিরামপুরে ১২৩ জন, ঝিকরগাছায় ৬৮ জন এবং চৌগাছায় ৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু হায়দার মনিরুজ্জামান জানান, এডিস মশা সাধারণত সূর্যোদয়ের পরের প্রথম দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টায় বেশি সক্রিয় থাকে। এ সময়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শরীর ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দেন তিনি।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। বাড়ির ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ও প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পানির পাত্র ঢেকে রাখা, মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা পেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

