নওগাঁ প্রতিনিধি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা, পানির সংকট ও প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র এবার উঠে আসছে বিশ্বমঞ্চে। আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের ৩১তম আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) নওগাঁর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন তরুণ জলবায়ু কর্মী মো. মামুনুর রেজা। সম্মেলনে বরেন্দ্র অঞ্চলের বাস্তবতা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে ফিরে জলবায়ু সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর।
সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ, উন্নয়নকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সেখানে মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পার্শ্ববৈঠকেও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে মামুনুরের।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুনুর দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ আন্দোলন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তিনি নওগাঁভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ভয়েস’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিবেশবিষয়ক জাতীয় সংগঠন ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’-এর প্রচার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়ে ওঠায় পানির সংকট, তীব্র তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও কৃষিতে এর বিরূপ প্রভাব খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অঞ্চলের মানুষের সমস্যা ও দাবিগুলো তুলে ধরতে চান।
মামুনুর রেজা বলেন, শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জলবায়ু সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সুরক্ষা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু তহবিলের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনুদানের বড় একটি অংশ প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক কাজে ব্যয় হয়। ফলে মাঠপর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছায় না। বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন আদায়ে জোরালো দাবি জানানো প্রয়োজন।
সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত ও চিত্র সংকলন করে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আলোচনায় স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজনগুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন তিনি।
সম্মেলন শেষে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা নওগাঁসহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান মামুনুর। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছেন এই তরুণ জলবায়ু কর্মী।

