নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গ্যাসের রাইজার লিকেজ সার্ভে করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিতাস গ্যাসের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সিটি করপোরেশনের বনরূপা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দাবি, আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস লাইনের লিকেজ শনাক্ত ও মেরামতের কাজের অংশ হিসেবে বিল বই যাচাই করতে গেলে সার্ভে টিমের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহতদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চারজন হলেন শাহা পরান (২৬), রনি (৩৫), ইউসুফ আকন (২৪) ও মো. তারেক (২২)। আহত অন্য দুজন হলেন সানজিদ ও সিয়াম।
আহত সানজিদের অভিযোগ, এক গ্রাহকের বাসায় বিল বই দেখতে চাওয়া হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ওই ব্যক্তি গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ পর মাহমুদ নামের ওই ব্যক্তি ৭০ থেকে ৮০ জন লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা সুশান্ত হালদারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মাহমুদের নেতৃত্বে লোকজন সার্ভে টিমের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা রড, লাঠি, বাঁশ ও টেবিলের পায়া দিয়ে তাঁদের মারধর করে। এ সময় শর্টগান প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পাশাপাশি গ্রাহকের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে—এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল সার্ভিসেসের মালিক নাসির উদ্দিন আকন বলেন, চার মাস ধরে এ কাজ চলছে। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ চলার কথা রয়েছে। চারটি গ্রুপে মোট ১৬ জন কর্মী কাজ করছেন। ঘটনার সময় কয়েকজন কর্মী কাজ করছিলেন। হামলায় কারও মাথা ফেটেছে, কারও হাত ভেঙেছে।
তিনি বলেন, এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ। তাই তিতাস কর্তৃপক্ষই মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক সুরুজ আলম বলেন, গ্যাসের সিস্টেম লস কমানো ও গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান কার্যালয়ের পরামর্শ এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবাসিক গ্রাহকদের লিকেজ লাইন মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল সার্ভিসেস নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গ্রাহকদের বাসায় গিয়ে বিল বই যাচাই করে লিকেজ শনাক্ত ও মেরামতের কাজ করছেন। এ জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। ইতিমধ্যে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার গ্রাহকের লাইন মেরামত করা হয়েছে। টঙ্গী, জয়দেবপুর ও কোনাবাড়ী এলাকায় মোট ১১ হাজার গ্রাহকের গ্যাস লাইন মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে।
সুরুজ আলম আরও বলেন, বৃহস্পতিবার চৌরাস্তা এলাকায় এক গ্রাহকের বাসায় বিল বই যাচাই করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এখনো থানায় মামলা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্ত মাহমুদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

