Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাউনিয়ায় কৃষকের ঘরে নবান্নের আনন্দ, নতুন ধানে উৎসবের আমেজ

মিজানুর রহমান, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি 
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৩:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মিজানুর রহমান, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি 

হেমন্তের সোনালি ধানে ভরে উঠেছে মাঠ। নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে রংপুরের কাউনিয়ায় কৃষকের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসব। নতুন চালের পোলাও, পিঠাপুলি ও পায়েসসহ নানা খাবারের আয়োজনে মেতে উঠেছেন কৃষক-কৃষাণীরা। আত্মীয়স্বজন, মেয়েজামাই ও পাড়া-প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করে উদযাপন করছেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব।

কালের বিবর্তনে গ্রামীণ জীবনে অনেক পরিবর্তন এলেও নবান্নের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন কাউনিয়ার প্রান্তিক কৃষকরা। নতুন ধানের চাল দিয়ে রান্না করা হচ্ছে নানা পদের খাবার। কোথাও গরু, মহিষ ও খাসি জবাই করে আয়োজন করা হচ্ছে ভোজের। আবার কেউ হাটবাজার থেকে বড় মাছ ও মাংস কিনে অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণশর্মা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সময়ের জন্য গ্রামের বধূরা জামাইকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে নবান্নের আনন্দ উপভোগ করতে অপেক্ষা করেন। নতুন ধান ঘরে তোলার পর তা সিদ্ধ, শুকানো ও ভাঙিয়ে নবান্নের খাবার তৈরি করা হয়। এভাবেই বংশপরম্পরায় গ্রামে নবান্নের উৎসব চলে আসছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এবার আমন মৌসুমে বিআর-১১, ব্রি-৭৫, স্বর্ণা, বিনা-১৭, ব্রি-১০৩, ব্র্যাক-১ এবং ব্রি-৪৯, ৫১ ও ৫২ জাতের ধান চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কৃষক ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। উফশী জাতের ধান বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ মণ এবং হাইব্রিড জাতের ধান ১৮ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে। বাজারে উফশী ধান প্রতি মণ সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধান ৯৫০ থেকে ১ হাজার ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার নিজদর্পা গ্রামের মফিজুল ইসলাম, হরিচরণশর্মা গ্রামের আব্দুল লতিফ, হরিশ্বর গ্রামের মনোয়ার হোসেন ও আবু তালেব, বাহাগিলী গ্রামের রনজিৎ চন্দ্র, হরিচরণলস্কর গ্রামের রাশেদুল ইসলাম এবং উপজেলা সদরের ওমর আলীসহ কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে লাইন-লোগো-প্যাচিং (এলএলপি) পদ্ধতি অনুসরণ করায় পোকার আক্রমণ, রোগবালাই ও উৎপাদন খরচ কিছুটা কমেছে। আগাম ধান কাটতে পারায় রবিশস্য চাষেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের বাজারদর কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ হচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেন কৃষকরা। তাঁদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রবিশস্য চাষের মাধ্যমে ধানের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে কাউনিয়া পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে ৩৭ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার আমন ক্ষেতে রোগবালাই কম দেখা গেছে। এতে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, নবান্ন বাংলার আদি সংস্কৃতির অংশ। এ ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার শিকড় ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরতে হবে। নবান্ন একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব, যা আবহমানকাল ধরে এ অঞ্চলে পালিত হয়ে আসছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।