শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
শীতের আগেই বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন বিলে পাতা হয়েছে পাখি শিকারের ফাঁদ। এসব ফাঁদে আটকা পড়ছে অতিথি পাখিসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। পরে সেগুলো গোপনে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীতের শুরুতে তীব্র ঠান্ডা, তুষারপাত ও খাদ্যসংকট এড়াতে সুদূর সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে পরিযায়ী পাখিরা এ দেশের খাল-বিল ও জলাশয়ে আশ্রয় নেয়। কিন্তু প্রতিবছরই অসাধু শিকারিদের ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারায় এসব পাখি। দেশে প্রচলিত আইনে পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও একশ্রেণির শিকারি আইন অমান্য করে নানা কৌশলে পাখি শিকার করছে। অধিক লাভের আশায় শিকার করা পাখি গোপনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার সোনাখালী, রুয়েরকুল, কালশিরা, বারাশিয়া ও সাবোখালীসহ বিভিন্ন বিলে ফাঁদ পেতে পাখি শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিকার করা পাখি চিতলমারীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার পাখি ধরার ফাঁদ তৈরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের তৈরি ফাঁদ পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিকারিরা আগাম টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
শ্রীরামপুর গ্রামের খোকন বিশ্বাস জানান, রাত গভীর হলে বিলের ভেতর থেকে পাখির ডাক শোনা যায়। তবে তা অনেক সময় আসল পাখির ডাক নয়। আগে বাঁশির মাধ্যমে পাখির ডাক নকল করে তাদের ফাঁদের কাছে আনা হতো। এখন সাউন্ডবক্সে পাখির কণ্ঠ নকল করে বাজানো হয়। সেই ডাক শুনে পাখিরা ফাঁদের কাছে ছুটে এলে আটকা পড়ে। এভাবে একশ্রেণির শিকারি পাখি শিকার করছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলা থেকেও শিকার করা পাখির বড় চালান আসে। একশ্রেণির ভোজনরসিক মানুষ বেশি দামে এসব পাখি কিনে খাচ্ছেন। পাখি শিকার ও বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে চিতলমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার ঘোষ জানান, পাখি শিকার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিকার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব বিলে পাখি শিকার করা হচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব বিলে পাখি শিকারের ফাঁদ পাতা হয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করে অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

