শামীম শেখ, গোয়ালন্দ( রাজবাড়ী)
সন্তানদের পরিচয়ে পরিচিত হতে চান দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর মায়েরা। এ জন্য তারা তাদের সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) উপজেলার দৌলতদিয়া কেকে এস শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কেকেএস প্রদীপ প্রকল্পের আয়োজনে অভিভাবক সমাবেশ ও এ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইনে জেলা প্রশাসকের নিকট এ দাবি তুলে ধরেন তারা।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন।
সমাবেশে যৌনজীবি মা কুমলি বেগম এবং ফরিদা পারভিন আবেগজড়িত কন্ঠে তাদের বক্তব্যে বলেন, “আমাদের জীবন অন্ধকারে তলিয়ে গেছে। নিজেদের পরিচয় দেয়ার মতো কোন পরিচয় নাই। তাই আমরা আমাদের সন্তানদের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই। আপনারা দয়া করে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করুন, তাদেরকে বাঁচান। তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করুন। আমরা তাদের যৌনপল্লীর অন্ধকার জগতে তলিয়ে যেতে দিতে চাই না।”
বেসরকারী সংগঠন কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার সহকারী নির্বাহী পরিচালক ফকির জাহিদুর রহমান বলেন, এখানে যৌনপল্লী এবং পল্লীর আশপাশ এলাকার ৭ শতাধিক শিশুর বাড়িঘরে পড়ালেখার তেমন কোন ভাল পরিবেশ না থাকায় স্কুলের পাঠ প্রস্তুতে প্রত্যহ টিউশন সহায়তা, যাবতীয় শিক্ষা সামগ্রী সহায়তা, সুরক্ষা, ঝড়ে পড়া ঠেকানো, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নানা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রদীপ নামে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছিল তারা। সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তা চলা প্রকল্পটির মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যায় এবং পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় যৌনকর্মী মা সহ সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জানান, আমাদের পেছনে ফিরে যাবার কোন সুযোগ নেই। এই সকল শিশুদের অন্ধকার জীবন হতে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। এখানে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরটি শোনার পরই তিনি এনজিও ব্যুরো, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ শুরু করেন। এতে সাফল্যও আছে। আপাতত আগামী তিন মাসের জন্য প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সেইসাথে প্রকল্পটি যেন দীর্ঘ মেয়াদি হয় সে জন্য তিনি কাজ করছেন বলে জানান। এ সময় তিনি মায়েদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং সন্তানদের আদর্শ মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার পরামর্শ দেন।
কর্মজীবি কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল জব্বার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. তারিকুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তাবিবুর রহমান ,গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম, কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার সহকারী নির্বাহী পরিচালক ফকির জাহিদুর রহমান রুমন,সেভ দা চিলড্রেনের প্রজেক্ট ম্যানেজার (শিক্ষা) সাইফুল ইসলাম খান সেলিম , প্রজেক্ট কো-অডিনেটর রুমা খাতুন প্রমুখ।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক শিশুদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরন করেন।

