সিফাত আহমেদ,কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—একরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. মঈন উদ্দিন (৪৮) এবং উত্তর সালুয়া গ্রামের মৃত মকরম হুসেনের ছেলে মো. মগল মিয়া (৪৬)। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ভোরে পৃথক অভিযানে তাদের নিজ নিজ গ্রাম থেকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দিন পিপিএম অনলাইন নিউজ পোর্টাল নবধারা কে জানান, “গ্রেফতার দুইজনকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও এই মামলায় ১০-১২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অনেকে জামিনে রয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় স্থানীয় অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. নয়ন মিয়া বাদী হয়ে ৩০ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় মামলা করেন। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছা জিসানকে প্রধান আসামি করে ২৮৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাজরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। হামলার সময় দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ হামলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছা জিসান ও রামদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আলাল উদ্দিনের নির্দেশে সংঘটিত হয়।
উল্লেখ্য, হামলার ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত ইমতিয়াজ বিন মুছা জিসান ও আলাল উদ্দিন আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইমরান খান বলেন, “আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রায় সবাই ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। হামলার মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিসহ সকল হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”

