রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
দেনার দায়ে জর্জরিত ছিলেন খুলনার রূপসার বাসিন্দা ইউনুস শেখ (৩৫)। দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে পূর্ব রূপসা শাখার কৃষি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণের আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে ব্যাংক ব্যবস্থাপক সেই আবেদন অনুমোদন না করায় ক্ষোভে ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করেন ইউনুস। শুক্রবার ভোরে ব্যাংকের প্রহরী অনুপস্থিত থাকার সুযোগে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তিনি।
রোববার ভোররাতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইউনুস শেখ। সোমবার (১৮ আগস্ট) খুলনার রূপসা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনন্যা রায়ের আদালতে এ জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে ১ লাখ ৫২ হাজার ৯১০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি বাকিটা।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান নবধারাকে বলেন, ঋণ না পেয়ে ক্ষোভে ব্যাংক লুটের সিদ্ধান্ত নেন ইউনুস। শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় সুযোগ নেয় সে। নিচতলার একটি ওয়ার্কশপ থেকে গ্রাইন্ডিং মেশিন এনে মাত্র দেড় মিনিটে কলাপসিবলের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে ভল্ট ভেঙে টাকা নেয়।
তিনি বলেন, প্রথমে ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিজের ঘরে এনে তোশকের নিচে রাখে ইউনুস। পরে আবার ব্যাংকে ঢুকে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট লুঙ্গিতে করে তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষে লুকিয়ে রাখে। প্রথম ধাপে হাতিয়ে নেওয়া টাকা দিয়ে চালের দোকান, মুদি দোকান এবং বিভিন্ন সমিতির দেনা পরিশোধ করে সে।
প্রতিনিধি জানায়, যাতে সিসিটিভিতে শনাক্ত না করা যায়, সেজন্য ইউনুস মুখে পলিথিন এবং হাতে মোজা পরে ছিল। তবুও ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার শারীরিক গঠন থেকে শনাক্ত করে পুলিশ। রোববার ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আরও জানান, ইউনুস আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছে। এখনো কিছু টাকা উদ্ধারের বাকি রয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে।

