এস এম শরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে তুলারামপুর এলাকায় রেইনট্রি গাছের নিচে বসেছে অর্ধশত বছরের পুরনো জমজমাট ডোঙার হাট। নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকার কারিগররা ডোঙা নিয়ে তুলারামপুর হাটে এসেছেন বিক্রি করতে। দুই থেকে তিন জন লোক বহন করার জন্য ডোঙা এলাকার মানুষের কাছে খুবই উপযোগী।
প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার তুলারামপুর এলাকায় ডোঙার হাট বসে। সকাল থেকে ভ্যানযোগে বিক্রেতারা তাদের ডোঙা নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেন। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে দাম নিয়ে চলে আলোচনা। মূল সড়কের পাশে হওয়ায় ভ্যানচালকরাও সকাল থেকে হাটে উপস্থিত থাকেন, ক্রেতাদের কেনা ডোঙা বাড়ি পৌঁছে দিতে।
নড়াইল ছাড়াও সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, মাগুরা, গোপালগঞ্জ থেকে ক্রেতারা হাটে ডোঙা কিনতে আসেন। গাছের বয়স, মান ও আকৃতির ওপর নির্ভর করে ডোঙার দাম নির্ধারণ হয়। প্রতিটি ডোঙার দাম তিন-চার হাজার টাকা থেকে শুরু করে বড় হলে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে তুলারামপুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, কারিগররা তাদের ডোঙাগুলোকে শেষ মুহূর্তের আঁচড় দিয়ে নিখুঁত করে তুলছেন। সাজানো ডোঙার মাথাগুলো নানা মাছের আকারে তৈরি—যেমন মাগুর মাছের মতো শোল মাথা,কাইল্লে মাথা ইত্যাদি।
হাটে ক্রেতার ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বিক্রির মৌসুম এখনও শেষ হয়নি বলে তারা আশাবাদী। বিশ থেকে ত্রিশ বছর বয়সী তালগাছকে মাঝখানে কেটে দুইভাগ করে তৈরি হয় দুটি ডোঙা। সাধারণ নৌকার তুলনায় দামে কম ও বহনযোগ্য হওয়ায় ডোঙা এখানকার প্রধান জলযান। স্থানীয় লোকজন বিল থেকে মাছ ধরা, শাপলা তোলা, ধান-পাট কাটার কাজে ডোঙা ব্যবহার করে।
চর-শালিখা গ্রামের কারিগর আতিয়ার রহমান বলেন,বাবা-চাচাদের কাছ থেকে কাজ শিখেছি। এখন বড় ভাইরা ডোঙা বানায়, আমি ও তাদের সঙ্গে কাজ করি। বৃহস্পতিবার ও সোমবার তুলারামপুর হাটে ডোঙা বিক্রি করি। প্রতিটি ডোঙার দাম তিন থেকে চার হাজার টাকা, বড় হলে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে তুলারামপুর হাটে ক্রেতা আসে ডোঙা কিনতে।
মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলা থেকে ডোঙা কিনতে আসা রিপন কুমার বিশ্বাস বলেন,ডোঙা মূলত মাছ ধরা, শাপলা তোলা ও শামুক আহরণের জন্য আমরা ব্যবহার করি। আমি কয়েকটি ডোঙা দেখেছি, তাদের দামও বলেছি। যাওয়ার সময় একটি ডোঙা কিনে নিয়ে যাব।
নড়াইল জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সোলায়মান হোসেন বলেন,ডোঙা যারা তৈরি করে এটি তাদের আদি পেশা ও ঐতিহ্য। আমরা তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তুলারামপুর হাট ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডোঙা বিক্রির হাট বসে।

