জাবেদ হোসাইন মামুন, (ফেনী) প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় টানা ১০ দিন ধরে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ রয়েছে। এতে যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপ পড়ে থেকে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে পৌরবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে লাইভে এসে প্রতিকার দাবি করেছেন, কেউ কেউ আবার কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, সোনাগাজী পৌরসভা ২০০৩ সালে গঠিত হলেও এখনও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত জায়গা পায়নি। দীর্ঘদিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় বর্জ্য ফেলা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে চরদরবেশ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় অস্থায়ীভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। কিন্তু ১০ আগস্ট স্থানীয়রা বাধা দিলে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গত দশ দিন ধরে ড্রেনের ময়লা ও গৃহস্থালির বর্জ্য রাস্তায় ফেলে রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, “স্থান নির্ধারণ না করে পৌরসভা ঘোষণা করাই ভুল ছিল। এখন চাইলেও জমি ক্রয় সহজ নয়। তবে জনবসতিহীন এলাকায় দ্রুত বর্জ্য ভাগাড় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “দশ দিন ধরে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় শহরে রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পৌর এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বাজার, গলি ও ড্রেনে ময়লা জমে এখন বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়ছে শহর। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে পৌরসভা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিতে পরিণত হবে।
পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন সেন্টু বলেন, “দ্রুত জমি ক্রয় করে বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না নিলে পৌরবাসীর দুর্ভোগ বাড়তেই থাকবে।”

