রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামে এখন চারপাশ জুড়ে শুধুই সবুজ আর সবুজ। শিমের পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আগাম শিম। এই সবুজ বিপ্লবের নায়ক স্থানীয় কৃষক মোঃ হাবিবুর রহমানসহ অনেকেই। আগাম জাতের শিম চাষ করে তারা এখন দেখাচ্ছেন নতুন সম্ভাবনার মুখ। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং জমির উর্বরতা ভালো হওয়ায় শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় শিম চাষে লাভের মুখ দেখেছেন কৃষকেরা। শুধু নিজেদের এলাকার চাহিদাই নয়, এই শিম যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও।
হাবিবুর রহমান এবার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ জমিতে বারি জাতের লউচ্চফলনশীল শিম চাষ করেছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, তাঁর শিম ক্ষেতের গাছগুলো থোকায় থোকায় শিমে ভর্তি। প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে গুচ্ছ গুচ্ছ সবুজ শিম। প্রতি বছর তিনি এই সময়েই শীতকালীন আগাম শিম লাগিয়ে থাকেন। শিমের ভালো ফলনের জন্য নিচ্ছেন নিয়মিত যত্ন এবং অনুসরণ করছেন কৃষি অফিসের পরামর্শ। শিম চাষী শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও খালেক গাজী জানান, এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। অর্থাৎ খরচের তুলনায় কয়েক গুণ লাভ।
শেখ মাহতাব হোসেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং একজন স্কুল শিক্ষক হলেও এবারে লীজ নেয়া ঘেরের আইলের জমিতে শিম চাষ করেছেন। তাঁর ক্ষেতজুড়ে এখন শিম গাছে ফুলের সমারোহ।
তিনি জানান, নিয়মিত পরিচর্যা করলে প্রতি সপ্তাহে দুইবার ৪ থেকে ৫ মণ শিম তুলতে পারবেন। আগাম শিমের দাম ভালো থাকায় তিনি এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন,”শিম চাষ এখন বাংলাদেশের কৃষিতে একটা বিপ্লবের মতো কাজ করছে। কৃষকরা এখন বছরজুড়ে শিম চাষ করছেন এবং লাভবান হচ্ছেন।” তিনি জানান, চলতি বছর খুলনা জেলায় প্রায় ৫৪০ হেক্টর জমিতে আগাম শিম চাষ হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইন্সাদ ইবনে আমিন জানান,“এই মৌসুমে ডুমুরিয়ায় ২৪০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ৩১৫ হেক্টরে আগাম শিম। কৃষকরা লাভজনক ফলন পেয়ে এখন আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন।”

