আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা
চার দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন করায় নেত্রকোনায় চারজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একযোগে অনির্দিষ্টকালের গণছুটিতে গেছেন। ফলে জেলাজুড়ে গ্রাহক সেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সাতক্ষীরার ১২টি অফিসে কর্মরত ৬৯০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ ইতোমধ্যে ছুটির আবেদন করে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। এতে জেলার প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংক্রান্ত নানা সমস্যায় পড়েছেন।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাটকেলঘাটা বিদ্যুৎ অফিসে কথা হলে এক কর্মকর্তা জানান, “সিস্টেম সংস্কার ও আরইবি’র নিপীড়নের বিরুদ্ধে নেত্রকোনায় চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণেই চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর আরও তিনজনকে বরখাস্ত করা হলে আমরা সকলেই প্রতিবাদে গণছুটির সিদ্ধান্ত নিই।”
তিনি বলেন, “বিআরইবি দেশের ৮০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকলেও তাদের বিতরণ ব্যবস্থা দুর্বল ও অদক্ষ। ফলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহক।”
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের আওতাধীন এলাকাগুলোতে বর্তমানে বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, মিটার সংযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ যেকোনো সেবার জন্য কেউ দায়িত্ব পালন করছেন না।
পাটকেলঘাটা অফিসে আসা গ্রাহক সঞ্জয় জানান, “আমার পোল্ট্রি ফার্মে হঠাৎ মিটার নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন মিটার না লাগাতে পারলে অনেক মুরগির বাচ্চা মারা যাবে। কিন্তু অফিসে এসে দেখি কেউ নেই।”
আরেক গ্রাহক মিজানুর রহমান বলেন, “সকাল থেকে অফিসে এসে বসে আছি, কেউ নেই। কেবল একজন বিল নিচ্ছেন, অন্য কোনো সেবা মিলছে না।”
গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা এজিএম সাধন কুমার দাস জানান, “বরখাস্তের প্রতিবাদে সাতক্ষীরার ১২টি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একযোগে ছুটিতে গেছেন। এখন গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার মত কেউ নেই। এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দমন-নিপীড়ন, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে চার দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনে রয়েছেন। আরইবি ও পিবিএস-এর মধ্যকার প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

