রুহুল আমিন, যশোর প্রতিনিধি
যশোর শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষার্থীদের নাম সংশোধনের কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও তা অনেক সময় অনলাইনে আপডেট না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব খোলা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পাসপোর্ট তৈরি প্রক্রিয়ায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, যেসব শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট ও মার্কশিটে নিজের নাম, পিতার নাম বা মাতার নাম ভুল থাকে, তারা বোর্ডের নির্ধারিত ফি ১,০০৩ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করেন। আবেদন করার ১–২ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের বোর্ডে ডাকা হয় শুনানির জন্য। শুনানি শেষে সংশোধন অনুমোদন হলে শিক্ষার্থীকে জানানো হয় এবং তারা নতুন ফ্রেশ সার্টিফিকেট ও মার্কশিট তুলতে পারেন ৬০৩ টাকা ফি জমা দিয়ে।
কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছে সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে। বোর্ডের সিস্টেম এনালিস্টরা সংশোধনকৃত তথ্য অনলাইনে আপডেট না করায় শিক্ষার্থীরা পরে ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য জায়গায় অনলাইন যাচাইকরণে আগের ভুল তথ্য দেখতে পান।
এমনই দুর্ভোগে পড়েছেন রাহাত কবির রাতুল নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি মাগুরা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে এসএসসি এবং মাগুরা সরকারি এইচএসসি কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। সংশোধন শেষে ফ্রেশ সার্টিফিকেট ও মার্কশিট সংগ্রহ করলেও অনলাইনে এখনো পুরাতন ভুল তথ্যই দেখা যাচ্ছে, যার ফলে তিনি ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় সমস্যায় পড়েন।
পরে মঙ্গলবার বোর্ডে গিয়ে অভিযোগ করার পর সিস্টেম এনালিস্ট সালমা কোহিনুর তার অনলাইন রেকর্ড আপডেট করেন।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম এনালিস্ট কহিনুর বেগম জানান, “বোর্ডের ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা থাকার কারণে অনেক সময় অনলাইনে সংশোধন আপডেট করা সম্ভব হয় না। ইন্টারনেট ভালো থাকলে এ সমস্যা থাকবে না।”
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, “নাম সংশোধনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চিঠি জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অনলাইনেও সংশোধন করার কথা বলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও সংশোধন না হওয়া দুঃখজনক।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষা বোর্ড যেন অনলাইন আপডেট নিশ্চিত করে তাদের ভবিষ্যৎ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে এবং এ ধরনের অব্যবস্থাপনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

