রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা সিটি করপোরেশনের কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক নেতার অস্ত্র ফেরত চেয়ে করা আবেদন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক সময় এলাকায় প্রভাবশালী ও বেপরোয়া আচরণের জন্য পরিচিত এসব সাবেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অতীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। অভ্যুত্থানের পর অনেকে পলাতক, কেউ কারাগারে, কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে নীরব জীবনযাপন করছেন।
সম্প্রতি পুরাতন অভ্যাসে ফিরে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ফেরতের আবেদন করেছেন খুলনার ৭, ১৬, ২৭ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর যথাক্রমে সুলতান মাহমুদ পিন্টু, আনিসুর রহমান বিশ্বাস, এস এম রফি উদ্দিন এবং আরিফ হোসেন মিঠু। এদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে বিএনপি এবং যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কেউ কেউ বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
তালিকায় আরও আছেন সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপু, যিনি খুন হওয়ার আগে অস্ত্র ফেরতের জন্য আবেদন করেছিলেন। একইভাবে আবেদন করেছেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন খন্দকার, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাই ওমর ফারুক বিশ্বাস, বিতর্কিত ঠিকাদার শেখ মাহাবুবুর রহমান, চিতলমারী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শামীম এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর কবীর।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে দেওয়া সব অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র ও গুলি জমা দেওয়ার নির্দেশনা জারি হয়। খুলনা জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ওই সময়ে খুলনা থেকে ৫২৪ জন অস্ত্রের লাইসেন্সধারীর মধ্যে ৫২২ জন বৈধ অস্ত্র জমা দেন। নির্দেশনা অমান্য করায় বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এবং জলমা ইউনিয়নের কাজী মোমিনুল হকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আবেদন প্রক্রিয়ায় জুন পর্যন্ত প্রায় ৩২০ জন অস্ত্র ফেরতের আবেদন করেছেন। এসব আবেদনকারীদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক এবং সাবেক জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। অনেক আবেদনকারীর অস্ত্র ফেরত দেওয়া হলেও বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের অস্ত্র ফেরত দেওয়া হয়নি।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের অস্ত্র ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এসব আবেদনের ব্যাপারে নেতিবাচক মতামত দেওয়ায় অস্ত্র ফেরতের অনুমোদন মেলেনি।
খুলনার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুল ইসলাম বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্য মতে, আবেদন করলেই অস্ত্র ফেরত দেওয়া যাবে—এমনটি নয়। প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

