হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বহিলাপোতা ও হরিনাপোতা মৌজায় ভয়াবহ বন্যায় ডুবে গেছে প্রায় এক হাজার একর জমি। এতে ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ও শতাধিক মাছের ঘের। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক ও মাছ চাষি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হরিনাপোতা ৫৫ নম্বর মৌজার সরকারি খতিয়ানভুক্ত জমি বহুদিন ধরে বুজতলা, বুকপাড়া ও ঘিবা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দখলে ছিল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পহেলা বৈশাখের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রশাসনিক বিলম্বে শ্রাবণ মাসে হস্তান্তর করা হয়। ফলে সময়মতো ভেরি বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। অসম্পূর্ণ বাঁধ ভেঙে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘের ও ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে যায় এবং ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঘের তৈরি করা হলেও সবকিছু মুহূর্তেই পানিতে ভেসে গেছে। দেনার বোঝা কাঁধে নিয়ে এখন তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সন্তানদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনের বিলম্বই আমাদের সর্বনাশ করেছে। সময়মতো জমি বুঝিয়ে দিলে ভেরি বাঁধ দিয়ে আমরা ঘের রক্ষা করতে পারতাম। এখন আমরা পথে বসার উপক্রম।”
বহিলাপোতা ফিসারিজ প্রজেক্টেও একই চিত্র। এখানকার বিনিয়োগকারীরাও সর্বস্ব হারিয়েছেন। অনেকেই ঋণ শোধে হিমশিম খাচ্ছেন।
এলাকার প্রবীণ কৃষকরা জানান, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ কৃষি ও মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। এবারের বন্যায় সেই প্রধান জীবিকা ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, সরকারের দ্রুত উদ্যোগ ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া হাজারো পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়বে।

